বাফুফে নির্বাচন ভোটযুদ্ধেও আবাহনী-মোহামেডান

প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০

বাফুফে নির্বাচন ভোটযুদ্ধেও আবাহনী-মোহামেডান

খেলা ডেস্ক :

ভোটের ময়দানেও আবাহনী-মোহামেডান লড়াই। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচনে সেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মনোনয়নপত্র বিক্রির শেষদিন বাদল রায় ও শফিকুল ইসলাম মানিক সভাপতি পদের জন্য মনোনয়নপত্র কিনে জমিয়ে তুলেছেন নির্বাচন।

শেষ পর্যন্ত যদি সব ঠিক থাকে, তাহলে বাফুফের নির্বাচন পরিণত হবে মোহামেডান-আবাহনীর যুদ্ধে। সাবেক ফরোয়ার্ড ও বাফুফের বর্তমান সহ-সভাপতি বাদল রায় ক্যারিয়ার শুরু ও শেষ করেছেন মোহামেডানে।

সাবেক ডিফেন্ডার শফিকুল ইসলাম মানিকও খেলেছেন সাদা-কালো জার্সি গায়ে। দু’জনই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন আবাহনীর সাবেক তারকা স্ট্রাইকার কাজী সালাউদ্দিনের প্রতি। একসময় মাঠে যারা ছিলেন পরস্পরের প্রতিপক্ষ, বাফুফের নির্বাচনেও তারা সেই একই ভূমিকায়।

বাফুফের সভাপতি পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েও সরে দাঁড়িয়েছেন তরফদার রুহুল আমিন। এর ফলে মনে করা হয়েছিল, বর্তমান সভাপতি সালাউদ্দিন বুঝি ফাঁকা মাঠে গোল করবেন! বাদল রায় ও শফিকুল ইসলাম মানিক হঠাৎ নির্বাচনী ময়দানে নেমে যাওয়ায় উত্তাপ কিছুটা ফিরে এলো।

যদিও শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন কি না, সেটাই এখন দেখার। আগামী ৩ অক্টোবর বাফুফের নির্বাচন। এদিকে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে নির্বাচনী বৈতরণী বিনাযুদ্ধে পার হতে পারছেন না সালাম মুর্শেদীও। এই পদে মনোনয়ন তুলেছেন আরেক সাবেক ফুটবলার শেখ মো. আসলাম। সোমবার মনোনয়নপত্র বিক্রির শেষ দিনে ছিল এই তিনটি চমক।

বেলা ১টা। বাফুফে ভবনে এলেন শফিকুল ইসলাম মানিক। কেউ টের পাননি কী ঘটতে যাচ্ছে। বাফুফের হিসাব শাখা থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি হাতে সভাপতি পদের মনোনয়নপত্র নিয়ে। হঠাৎ চাঞ্চল্য মিডিয়া কর্মীদের মধ্যে। ঘণ্টা দেড়েক পর এই পদে মনোনয়নপত্র কেনেন বাদল রায়। তার ম্যানেজার প্রদীপ এসে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। ফলে একজন নন, সভাপতি পদে সালাউদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী এখন দু’জন। তফসিল ঘোষণার পর শনিবার শুরু হয় মনোনয়নপত্র বিক্রি।

প্রথমদিন সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দু’জন এবং সদস্য পদে তিনজন মনোনয়নপত্র কেনেন। রোববার সহ-সভাপতি পদে একটি এবং সদস্য পদে আরও ১০টি মনোনয়ন বিক্রি হয়। কিন্তু গেল দু’দিন সভাপতি ও সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে কেউ মনোনয়ন কিনতে আগ্রহী হননি। চমক দেখা গেল শেষদিন এসে। আজ বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে।

২১ পদে ৪৯ প্রার্থী

সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনাগোনা আগেরদিন কম ছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কার্যালয়ে। সোমবার উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দেন সাবেক তারকা ফুটবলাররা। সভাপতি পদে কাজী সালাউদ্দিনের বিপরীতে বাদল রায় ও শফিকুল ইসলাম মানিক এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আবদুস সালাম মুর্শেদীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মনোনয়নপত্র কেনেন শেখ মো. আসলাম।

একটি পরিবর্তন এনে পূর্ণতা দেয়া হয় কাজী সালাউদ্দিনের প্যানেলকে। আরিফ হোসেন মুনের জায়গায় প্যানেলভুক্ত করা হয় টঙ্গীর নুরুল ইসলাম নুরুকে। শুক্রবার বাফুফে ভবনে ঢুকতে বাধা দেয়ায় সালাউদ্দিনের প্যানেল থেকে নির্বাচন করতে অস্বীকৃতি জানান মুন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করা সংগঠক মাহফুজা আক্তার কিরনকে ফের নিজের প্যানেলে ঠাঁই দিলেন সালাউদ্দিন।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিনের চিত্রে দেখা যাচ্ছে জমে উঠেছে বাফুফের নির্বাচন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছাড় পাচ্ছেন না কেউ। ২১ পদের বিপরীতে বাফুফের হিসাব শাখা সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে ৪৯টি।

এর মধ্যে সভাপতি পদে তিনটি, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দুটি, সহ-সভাপতির চারটি পদের বিপরীতে আটটি এবং ১৫টি সদস্য পদের বিপরীতে ৩৬টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। শনিবার প্রথম দিনে পাঁচটি এবং পরদিন ১১টি মনোনয়নপত্র কিনেছেন প্রার্থীরা। শেষ দিনে ৩২টি মনোনয়নপত্র কিনে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলেন তারা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল